

৮ জুলাই ২০২৪ তারিখ বেলা ১১.০০ ঘটিকায় কেন্দুয়া উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এর সভাপতি রহিছ উদ্দিন। প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডা:মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ইউএইচএফপিও ( ভারপ্রাপ্ত)। আরো উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, দিঘলকুর্ষা কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিনিধি সিএইচসিপি, এইচ আই খন্দকার শাহানুর, এএইচ এ , মেম্বার ,শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এবং যুব ফোরামের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সদস্যবৃন্দ। স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি থেকে উপস্থিত ছিলেন কোহিনূর বেগম, ব্যবস্থাপক স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি,নেত্রকোণা, চয়ন সরকার পিসি স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি,কেন্দুয়া ও ঝর্ণা জাহান।

অতিথিদের আসন গ্রহণের পর প্রত্যেকে প্রত্যেকের নিজ নিজ আসন থেকে পরিচয় প্রদান করেন। সভা পরিচালনা করেন কোহিনূর বেগম, ব্যবস্থাপক স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি ।
সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্য: সকলকে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করে। সদস্যরা সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে স্বাস্থ্য সেবাকে উন্নত করার জন্য। স্বাস্থ্য সেবার সচ্ছতা এবং জবাব দিহিতা তৈরি করবে স্বাস্ব্য অধিকার ফোরাম
মুক্ত আলোচনা:
কানিজ সুলতানা মিতু, সহ- সভাপতি উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম তিনি বলেন সকাল ১০ টায়ও টিকেট কাউন্টার খোলা হয় না।
সখিনা খাতুন: সিনিয়র ষ্টাফ নার্স: একজন পরিছন্নতাকর্মী দিয়ে হাসপাতাল চালানো সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন।
লুৎফর রহমান ভূইয়া: বিদুৎ ব্যবস্থা ভাল না । ঘন্টার পর ঘন্টা বিদুৎ থাকে না। বিকল্প হিসেবে আইপিএস এর ব্যবস্থা করলে রোগীদের জন্য খুব ভাল হয়।
রাখাল বিশ্বাস: স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল সংকট রয়েছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। ইমারজেন্সি বিভাগে হটলাইন নম্বও চালু করা দরকার। রোগীদের প্রতি ডাক্তারদের আরো আন্তারিকতা বাড়ানো দরকার।
খন্দকার শাহানূর, হেল্থ ইনসপেক্টর (এইচ আই): হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা রোগীদের সেবার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে তবে রক্তের ক্রসমেচিং করার ব্যবস্থা নাই। কমিউনিটি ক্লিনিকের ওজন মাপা, প্রেশার মাপা ও ডায়াবেটিশ মাপার যন্ত্র খুব তাড়াতাড়ি দেওয়া হবে। ক্লিনিকের জন্য নতুন ভবনের অনুমোদন হয়েছে শুধু ভবন তৈরির অপেক্ষা করতে হবে।
ডাক্তার অরুপ কুমার সরকার, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার: টিকেট কাউন্টারের কর্মী দেরী করে আসলে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইমারজেন্সি বিভাগের জন্য জরুরী হটলাইন নাম্বার চালু করা হবে। ডাক্তার সংকট রয়েছে। আমাদের দুটি আইপিএস এর খুব প্রয়োজন। আউটডোর এর সেবায় মূলত ৩দিনের ঔষধ দেওয়ার কথা রোগীদের কিন্তু তারা নিয়ম না মেনে বেশি ঔষধ নিতে চায়।
প্রধান অতিথি: ডা: মো: নিজাম উদ্দিন: ভারপ্রাপ্ত, ইউএইচএফপিও: তিনি বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে হাসপাতাল তৈরি হয়। ২০২১ সাল থেকে অপারেশন হয়। এ্যম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। নেত্রকোণা জেলার ১০ টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে সর্বপ্রথম কেন্দুয়াতে সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। কাপড়চোপড় ধোয়ার জন্য ১জন ধোপা রয়েছেন, একজনের দ্বারা কাপড়চোপড় পরিস্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দালালের উপদ্রপ কেন্দুয়াতে নেই কারণ এখানে কোন ক্লিনিক নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত করা হয়। নিজেদের উদ্যোগেই ১ জন পরিছন্নতাকর্মীকে বেতন দেয়া হয়।
আমাদের সভা করা পূর্বে ডাক্তাররা হাসপাতালে বসে রোগীর নিকট থেকে ফি নিত, যা বর্তমানে পরিবর্তন হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের জনবল এর নিয়োগ দলীয় ভিত্তিতে হওয়াতে কর্মীরা রোগীদের সঠিক সেবা দিচ্ছে না। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়ায়। সময় মত অফিসে আসে না। আগের তুলনায় হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি হয়েছে।
Citizen's Voice